গাছের ডালে ঝুলছে ‘কাশ্মীরি সুন্দরী’, ‘মিস ইন্ডিয়া, ‘বল সুন্দরী-রা’! ভাবছেন তো এ আবার কী কথা! ভুল নয়, এমনটাই সত্যি। তবে এগুলি কোনও বিউটি কনটেস্টের নাম নয়। বরং কৃষিকাজে নতুন আয়ের পথ দেখাচ্ছে এমন ‘খেতাবওয়ালা’ কুল। অবাক হলেন? ইউটিউব দেখে এই সুন্দরী কুলের চাষ করে কৃষকদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের চাষী অরবিন্দ সরকার। কর্মসৃষ্টির কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা শুনেই কর্মসৃষ্টি করলেন ওই কৃষক। ইউটিউব দেখে শুরু করেন কুলের চাষ। আর তাতেই বাজিমাত। এই কুলচাষ বর্তমানে বিপুল আয়ের পথ দেখাচ্ছে জেলার অন্য কৃষকদের।

কৃষক অরবিন্দ সরকার জানিয়েছেন, নিজের জমিতে ৫ রকমের কুলের চাষ করেন তিনি। নামগুলিও ভারি চমৎকার। কাশ্মীরি সুন্দরী, বল সুন্দরী, চেরি আপেল, মিস ইন্ডিয়া। এই কুলচাষ গতানুগতিক চাষের বাইরে ভাল আয়ের বিকল্প চাষ হিসাবে জেলার অন্যান্য কৃষকদেরকেও আগ্রহ বাড়িয়েছে। কীভাবে জানলেন এই কুলগুলি সম্পর্কে? অরবিন্দ সরকার বলেন, কৃষিকাজে অভিনবত্ব আনতে আমি ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখি। তখনই এই সমস্ত কুল সম্পর্কে জানতে পারি। এই চাষ নিজের জমিতে করলে কেমন হয়? ভেবে কাজ শুরু করে দিই। খুঁজে খুঁজে জোগাড় করি বীজ। এখন দারুণ ফলন। গ্রামের অন্য চাষীরাও শুরু করেছেন এমন কুলের চাষ। তাঁরাও লাভের মুখ দেখছেন । এটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। এই কুলচাষ প্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা উদ্যান পালন দফতরের আধিকারিক সমরেন্দ্রনাথ খাঁড়া জানান, জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট হিসাবে তাঁরাও ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করেছেন, চলছে হ্যান্ডবিল বিলিও। তিনি জানিয়েছেন, কৃষকদের মধ্যে এই কুলচাষের উৎসাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন- ব্ল্যাক রাইস বা কালো চালের অসাধারণ গুণাগুণ

অন্য কুলচাষীরা জানিয়েছেন, এই কুলগুলি বাজারে বিক্রি হয় প্রায় ১২০ টাকা কেজি দরে । চাষের জন্য জমিও লাগে কম। খরচ কম কিন্তু আয় বেশি।