পৌষালী ঘোষ (ডায়েটিশিয়ান)

আমরা বর্তমানে কম বেশী সবাই স্বাস্থ্য সচেতন। ডায়েট করি বা না করি কোন খাবারে বেশী ক্যালোরি আর কোন খাবারে কম প্রোটিন তা ইন্টারনেটের দৌলতে আমরা জেনে গেছি। খাবারদাবার নিয়ে চর্চা আমরা প্রত্যেকেই কমবেশী করে থাকি। দেশী বিদেশি নানান ফুড কোম্পানী আসছে তাদের ঝুলিভর্তি ফুড সাপ্লিমেন্ট নিয়ে আর বেশ কিছু অনভিজ্ঞ লোককে সামান্য কিছু পয়সার বিনিময়ে ধরিয়ে দিচ্ছে ব্যবসার ঝুলি।

তারা পুষ্টি বিদ্যা না জেনেই অথবা সামান্য কিছু পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান নিয়েই নিজেদের কখনো ” Wellness coach ” তো কখনো ” Nutrition coach ” বলে মানুষের ওপর চালাচ্ছে ভয়ঙ্কর বিদ্যা। তারা নিজেরাও জানেনা ফুড প্রোডাক্টগুলোর কম্পোজিশান কি আছে বা সেই কম্পোজিশান সবার জন্য ফলপ্রদ কিনা। নিজের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে বড়ো বড়ো হেডলাইন ” ডায়েট ছাড়াই রোগা হোন মাত্র ৭ দিনে ” , ” ১০ কেজি ওজন কমান মাত্র ৩ দিনে ” দিয়ে মানুষকে করছে বিভ্রান্ত।

আরও পড়ুন: রক্ত তৈরিতে কলার মোচার ভূমিকা

আমরাও সবসময় খুঁজি ফাঁকিবাজি তা সেটা ভালো না খারাপ সেটা দেখার প্রয়োজন নেই। অনভিজ্ঞ কিছু মানুষের তত্ত্বাবধানে ৭ দিনে ওজন তো কমে গেলো কিন্তু অজান্তে ভবিষ্যতের জন্য কোনো বিরাট বিপদ ডেকে আনছি না সেটা বোধ হয় আমাদের ভাবার সময় নেই। বহু জায়গায় বহু হাসপাতালে ভুল ডায়েটের মাশুল গুনছে বেশ কিছু তরুন তরুনী , কারুর প্রানও গেছে বেশ কিছু গম্ভীর স্বরের ডায়েটের নামে। কখনো কিটো ডায়েট কখনো ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট নিয়ে মাথাব্যথা আছে আমাদের্। সেগুলো আদেও আমাদের দরকার আছে কিনা তার খোঁজ কতজন রাখি?

তাই বলছি , সময় থাকতে ভেবে দেখুন। সতর্ক হোন। কারুর থেকে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শ গ্রহন করার আগে খোঁজ নিন সে সেই বিষয়ে ঠিক কতটা জানে বা তার অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিক কি। ঝকমকে দুনিয়ার দিকে দৌড়াতে গিয়ে অজান্তে শরীরের কিছু ক্ষতি হলে তা কিন্তু কিছু করেই ঠিক করা যাবে না।
সুস্থ থাকুন , ভালো থাকুন।