পৌষালী ঘোষ ( ডায়েটেশিয়ান)

করোনা মোকাবিলায় যখন আমরা হিমসিম খাচ্ছি তারমধ্যেই ২৮ শে মে ছিল বিশ্ব পুষ্টি দিবস। বিশ্ব পুষ্টি দিবস শুরু হয়েছিলো ২০০৬ এ . হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমের রোগীদের ম্যালনিউট্রিশান জনিত রোগ কমানোর অনুপ্রেরনা নিয়ে এই প্রোজেক্টটি শুরু হয়েছিলো। এই প্রোজেক্টটির লক্ষ্যই ছিলো যাতে হাসপাতাল বা বাড়িতে থাকা বয়স্ক মানুষদের ম্যালনিউট্রিশান জনিত রোগের ব্যাপারে শিক্ষা দিয়ে সতর্ক করা যায়।
এবার পুষ্টি নিয়ে যেখানে এতো মাতামাতি সেখানে পুষ্টি কি তা জানা আগে দরকার্। ” পুষ্টি ” হল – ” যে প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় খাদ্য শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি , ক্ষয়পূরণ , শক্তি ও তাপ উতপাদন করে এবং তা বজায় রাখার জন্য কাজও করে , তাকে বলে পুষ্টি. “
ছোটো থেকে বড়ো সব মানুষকেই থাকতে হবে ফিট আর সাথে রাখতে হবে ব্যালেন্স ডায়েট কারন আমরা যে পরিস্থিতি দিয়ে যাচ্ছি তাতে শুধুমাত্র পরিপুষ্ট থাকতে পারলেই এ যাত্রায় বেঁচে যাবেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক সুস্থ ও পুষ্ট থাকার জন্য কি করা উচিত –

১) দিনের প্রতিটা মিল খান সঠিক সময়ে এবং সঠিক তাপমাত্রায় খান যেকোনো খাবার্।
২)নিয়মিত শরীরচর্চা করুন কমপক্ষে ৩০ মিনিট।
৩)দিনের কোনো মিল বাদ দেবেন না। মিল স্কিপ করলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।
৪) চিনি বা শর্করা জাতীয় খাদ্য , ফ্যাট জাতীয় খাদ্য কম খান।
৫) দেহের অনাক্রম্যতা বাড়াতে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন ফল যা থেকে পাবেন পর্যাপ্ত ভিটামিন সি . ভিটামিন সি শরীরে শ্বেতরক্তকনিকা বৃদ্ধি করে যা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৬)খাদ্যতালিকায় রাখুন সবুজ শাকসবজি যা আপনাকে দেবে বিভিন্ন মিনারেল এবং ভিটামিন।
৭)পরিপাকে সাহায্য করে টকদই। প্রতিদিন লাঞ্চে যোগ করুন দই। দই আমাদের পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্যবজায় রাখতে সাহায্য করেন।
৮)প্রতিদিন মাছ , মাংস , ডিম বা দুধ রাখুন খাদ্যতালিকায় যা প্রোটিনের উতস। এই সময় প্রোটিনজাতীয় খাবার খাওয়া বেশী দরকারী। এই খাবার দেহে অনাক্রম্যতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৯) একবারে বেশি খাবার খাওয়ার থেকে বারে বারে অল্প খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটি সব বয়সের মানুষের জন্যই দরকারী।
১০) জল , পানীয় দ্রব্য খান যথার্থ পরিমানে। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে ঘাম দিয়ে শরীর থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছে জল. তাই শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন।
১১) প্রতিদিন সহজপাচ্য সাদামাটা খাবার খান যা বদহজমে কষ্ট দেবে না।
১২) প্রসেস ফুড , ক্যানড ফুডের ব্যবহার কমিয়ে তাজা খাবার খান।
১৩) খাবার নষ্ট করবেন না কারন মহামারীতে অনেক মানুষ অনাহারে ভুগছেন।
১৪)দিনে ৮ ঘন্টা ঘুম খুবই জরুরী।
১৫) স্ট্রেস থেকে তৈরী হয় হাজার রকমের অসুখ ,তাই পজিটিভ

চিন্তা রাখুন , মন খুলে হাসুন।
সুস্থ থাকুন , ভালো থাকুন।