পৌষালী ঘোষ ( ডায়েটিশিয়ান)


আমাদের দেশে খাদ্যে ভেজাল দেবার রীতি চলে আসছে একটা প্রথার মতো। বংশ পরম্পরায় মানুষ লাভের অংশ বাড়াতে খাদ্যের গুনগত মান নিয়ে ছেলেখেলা চালাচ্ছে। বহু আইন থাকা সত্ত্বেও কি করে যে পার পেয়ে যায় তা বুঝতে আর কারুর বাকী নেই।

PFA act অনুযায়ী খাদ্যে ভেজাল হতে পারে ৩ ভাবে।
১) কেউ ইচ্ছাকৃত কোনো জিনিস খাবারে যোগ করলে।
২) অনিচ্ছাকৃত ভাবে উপযুক্ত সংরক্ষন না থাকায় কোনো টক্সিন বা ইনসেক্টিসাইড চলে গেলে.
৩) খাদ্যপ্রস্তুতি , সংরক্ষনের সময় ক্ষতিকারক বস্তু বা পোকামাকড় , ব্যাকটেরিয়া , ছত্রাক ইত্যাদির উপস্থিতিতেও খাদ্যের গুনগতমান কমে যায়।
আসুন জেনে নেওয়া যাক , ইচ্ছাকৃতভাবে কি কি মিশিয়ে ভেজাল খাদ্য তৈরী করা যায়।
১) কফি আমাদের দেশে নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় খাদ্যবস্তুর তালিকায় পড়ে। দেশে কফি চাষ তো হয় কিন্তু তাও কফিতে চিকোরি , তেঁতুল বা খেঁজুর বীজের গুঁড়ো মেশানো হয়।
২) নুনে মেশানো হয় স্টোন পাওডার , চকের গুঁড়ো। এক গ্লাস জলে ১ চামচ নুন ফেলে গুলিয়ে নিন. যদি দেখেন জলটি সাদা হয়ে গেছে বা কিছু গুঁড়ো পদার্থ গ্লাসের তলায় থিতিয়ে আছে তাহলে বুঝে যাবেন আপনার খাদ্যে রয়েছে ভেজাল।
৩) আজীবনকাল ধরে ঘি ব্যবসায়ীদের বংশ পরম্পরায় বনস্পতি ব্যবহারের প্রথা চালিয়ে যাচ্ছেন।
৪) বাচ্ছাকে মধু খাওয়াতে চান তাতেও তো গুড় মেশানো হচ্ছে।
৫) দুধে তো কখনও জল কখনো স্টার্চ মেশানো হচ্ছে।
৬) চালে মেশানো হচ্ছে মার্বেল বা অন্য সাদা স্টোন তো ডালে মেশানো হচ্ছে রং।
৭) সরষের বীজের পরিবর্তে আর্জিমন বীজ দিয়েই তৈরী হচ্ছে সরষের তেল যা ডেকে নিয়ে আসতে পারে মৃত্যু।
৮) রান্নায় ব্যবহৃত গুঁড়ো মশলাগুলোকেই বা ছাড়বে কেনো। হলুদের আকর্ষনীয় রং আনতে কখনো মেশানো হচ্ছে মেটানিল ইয়োলো তো কখনও ইয়ালো ক্লে , লাল লঙ্কার গুঁড়োতে মেশাচ্ছে ইঁটের গুঁড়ো , সোপস্টোন আবার কালো মরিচে মেশানো হচ্ছে পেঁপে বীজের গুঁড়ো।
৯) ডালে মেশাচ্ছে খেসারীর ডাল , স্টোন , লেড ক্রোমেট , মেটানীল ইয়োলোর মতো ক্ষতিকর রং।
১০) রান্নায় ব্যবহৃত তেলগুলোতে কখনো আর্জিমন তেল , কখনো ক্যাস্টর বা মিনারেল তেল মিশিয়ে রমরমিয়ে চলছে ব্যবসা।

আরও পড়ুন: খাদ্যের নিরাপদ পরিচালনা ||

দীর্ঘদিন অজান্তে খেয়ে আমরা শিকার হচ্ছি নানান জীবনদায়ী রোগের্। অজান্তেই রোগের বীজ পুঁতে দিচ্ছি আমাদের শিশুদের শরীরে। কালোবাজারী আর ভেজালের দুনিয়ায় আজ আমাদের শরীরেও বাসা বেঁধে নিয়েছে অনেক রোগ – যখন জানতে পারবো তখন জানি না কি যে করবো।

ব্যবসায়ীরা দয়া করে খাদ্যে ভেজাল দেওয়া বন্ধ করুন , মানবিক হোন। এই পৃথিবী সুন্দর করতে নিজেদের সততার পরিচয় দিন , আপনার অমানবিক কাজ কেড়ে নিতে পারে একটি প্রান , খালি হতে পারে মায়ের কোল।
সুস্থ থাকুন , সতর্ক থাকুন।