পৌষালী ঘোষ (ডায়েটেশিয়ান)

বয়ঃসন্ধি বা adolescence হল শৈশবের শেষ আর যৌবন শুরুর মাঝামাঝি জীবনদশা। WHO এর মতে ১০-১৯ বছরের মাঝামাঝি সময়কালকে বয়সন্ধিকাল বলে। এইসময়ে শারীরিক , জ্ঞানভিত্তিক , মানসিক সবরকমের পরিবর্তন দেখা যায়। জীবনের এই সময়ে পরিবার – আত্মীয়স্বজনের চেয়ে বন্ধুবান্ধব – সমাজ – সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আকর্ষন বেশী থাকে তারফলে এইসময় খাদ্যাভ্যাসের ওপর আমূল পরিবর্তন আসে। বর্তমানে মেদাধিক্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসাবে গন্য করা হয়। শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলোতে নয় উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও তরুনীদের মধ্যে মেদাধিক্যের হার বেশী থাকে.
নিত্যনতুন রকমারী মুখরোচক চোখধাঁধানো খাবারের মোড়ক তাদের আকৃষ্ট করে এবং সেই খাবারগুলোই চলে আসে নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায়। অনিয়ম , মুখরোচক , ফাস্টফুড , ফ্রায়েড ফুডের প্রতি আকর্ষন বাড়ে এবং মেদাধিক্যের শিকার হয় অনেক তরুন – তরুনী। বয়সন্ধির মেদাধিক্য ভবিষ্যতের জন্য বয়ে নিয়ে আসে হাজার রোগের ঝুঁকি। NCD ( Non communicable Disease) গুলো বেশীর ভাগই সূত্রপাত হয় বয়সন্ধির মেদাধিক্য এবং অনিয়মিত জীবনযাপন থেকে.

• Bad Eatting Pattern: দেশ – বিদেশের বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে বয়সন্ধিতে ফল , সবজি , দুধ ইত্যাদি খাবারের প্রতি অনীহা দেখা যায় আর বাইরের ভাজা তৈলাক্ত খাবার , সফট ড্রিঙ্কস , চিজ , বাটার , জ্যাম – জেলি ,কেক – প্রেস্ট্রিরপ্রতি আকর্ষন বাড়ে। যারফলে ওজন বৃদ্ধি হয়।
• Breakfast Skipping : বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তরুন – তরুনীরা শরীরচর্চার কথা ভেবে হোক বা ইচ্ছাকৃতই সকালের জলখাবারকে সারাদিনের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়. সেটাও বয়সন্ধির মেদাধিক্যের অন্যতম কারন।
• Sedentary Lifestyle : পড়াশোনার চাপ সাথে টিভি – কম্পিউটার – মোবাইলফোন – ভিডিওগেমের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে শরীরচর্চার অভাবে শরীরে মেদ জমতে থাকে।

বয়ঃসন্ধির মেদাধিক্য নিয়ন্ত্রনের জন্য কিছু টিপস রইলো –
১) তৈলাক্ত ভাজা ক্যালোরিযুক্ত খাবারকে এড়িয়ে চলে স্যালাড , স্প্রাউট , ফল ইত্যাদি ফাইবারজাতীয় খাবারকে রাখতে হবে নিত্যদিনের তালিকায়।
২) দিনে অন্তত ৩০ মিনিটের জন্য শরীরচর্চা করে ওজন নিয়ন্ত্রন রাখতে হবে।
৩) দিনের কোনো খাবারকে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিলে চলবে না। কিংসাইজ ব্রেকফাস্ট করাটা খুব দরকারী।
৪) শরীরকে সুন্দর রাখতে এবং সুঠাম রাখতে ব্যালেন্সডায়েটের প্রয়োজন রয়েছে।
সুস্থ থাকুন , ভালো থাকুন।

আরও পড়ুন-|| আমলকীর উপকারিতা ||